ঢাকা, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ — ইসলামি শিক্ষায় “আল-জাযাউ মিন জিনসিল আমল” বা “কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান” নীতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ন্যায় ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি কোরআন ও হাদিস-ভিত্তিক শিক্ষায় প্রতিফলিত হয়, যেখানে প্রতিটি কাজ—ভালো বা ম’ন্দ—তার অনুযায়ী ফলাফল পায়।
লেখক মনজূরুল হক তার প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই নীতি শুধু একটি ধর্মীয় ধারণা নয়; বরং এটি “জীবনের গভীর সত্য” হিসেবে কাজ করে, যেখানে মানুষ যেমন আচরণ করে, ঠিক সেভাবে তার প্রতিফলন তার জীবনে ফিরে আসে—দুনিয়ায় এবং আখেরাতে।
বিখ্যাত ইসলামি মুনাসেব ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যারা ভালো কাজ করে তাদের প্রতিদান “ভালোই” হয়, আর যারা ম’ন্দ কাজ করে, তাদের জন্য প্রতিদান “ম’ন্দই” হতে পারে।
কোরআনেও প্রতিদানের এই ন্যায়বোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যেমন, সুরা রাহমান-এর আয়াতে আছে:
“ভালো কাজের প্রতিদান কি ভালো ছাড়া আর কিছু হতে পারে?”
আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে, যারা ম’ন্দ কাজ করে তাদের “ম’ন্দ” ফল পাবে, আর যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য “হুসনা” — সর্বোত্তম প্রতিদান — নির্ধারিত আছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রবন্ধে “হুসনা”-র চেয়েও বড় প্র’তি’দানের কথা বলা হয়েছে: আখেরাতে আল্লাহর দৃষ্টিতে মানুষের দিদার সুযোগ।
এই দৃষ্টিভ’ঙ্গা ইসলামিক মূল্যবোধে ইহসান বা সর্বোত্তম সৎকর্মের মর্যাদাকে আরও গভীরভাবে সামনে নিয়ে আসে।
প্রবন্ধটি সামাজিক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেছে: এই নীতি মানবিক সহানুভূতি, ক্ষমা ও মিতব্যয়িতার মূল্য প্রচার করতে পারে। যদি মানুষ অপরের সুখ ও দুঃ’খ—ভালো বা ম’ন্দ—ভালভাবে বিবেচনা করে কাজ করে, তাহলে সে সমাজ দয়া ও ন্যায়র পথে এগোয়।
লেখক শেষমেশ পাঠকদের আহ্বান জানিয়েছেন: আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ন্যায় এর প্রতিফলনকে জীবনের নির্দেশিকায় পরিণত করতে, আমরা প্রতিদিন ইহসান এবং সদ্ব্যবহারকে গুরুত্ব দেই।













