ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝালকাঠির শেখেরহাট মাজার: শতবর্ষ পুরনো মাজার ঘিরে রহস্যে মোড়া এক আধ্যাত্মিক গল্প

📰 ঝালকাঠির শেখেরহাট মাজার: শতবর্ষ পুরনো মাজার ঘিরে রহস্যে মোড়া এক আধ্যাত্মিক গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঝালকাঠি |

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার শেখেরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত একটি পুরনো ও রহস্যময় মাজার— শেখেরহাট পীর সাহেবের দরগা। স্থানীয়রা একে সম্মানভরে ডাকেন “বুজুর্গ পীর সাহেবের মাজার” নামে। মাজারটির বয়স আনুমানিক ২০০ বছরেরও বেশি, তবে এর আশপাশে থাকা ইতিহাস, লোককথা ও অলৌকিক ঘটনা মিলে আজও এটি হয়ে আছে এক আধ্যাত্মিক রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু।

মাজারের অবস্থান খানিকটা গা-ছমছমে পরিবেশে, একটি প্রাচীন কবরঘরকে ঘিরে নির্মিত। সাদা গম্বুজের নিচে শুয়ে আছেন এক বুজুর্গ অলির কবর, যার প্রকৃত নাম বা পরিচয় আজো ধোঁয়াশায় ঢাকা। তবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, এই অলির দোয়ায় বহু মানুষ আরোগ্য লাভ করেছেন, মানত পূরণ হয়েছে বহু দরিদ্র-অসহায় মানুষের।

অলৌকিক ঘটনার গল্প

মাজার ঘিরে প্রচলিত রয়েছে বহু কাহিনি। স্থানীয়রা বলেন, রাত গভীর হলে মাজার এলাকা থেকে ভেসে আসে ধ্বনি— “আল্লাহু” কিংবা “ইয়া হক”। কারো মতে, সেগুলো জ্বিনদের জিকির। কেউ বলেন, পীর সাহেব এখনও তাঁর সাধনার শক্তিতে মাজারে উপস্থিত হন।

এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার জানায়, ১৯৭১ সালের এক রাতে পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়া এক যুবক মাজার চত্বরে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। গুলি চালানো হলেও কোনো গুলি তাকে স্পর্শ করেনি। সেই থেকেই মাজারটিকে ঘিরে বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

মানত আর মানুষের ভিড়

প্রতি বৃহস্পতিবার ও ওরসের সময় মাজার চত্বরে উপচে পড়ে ভক্তের ভিড়। কেউ খুশির খবরে মোমবাতি জ্বালান, কেউবা সন্তান লাভের আশায় ছাগল-গরু কোরবানি দেন। নারীরাও আসেন দূর-দূরান্ত থেকে, যদিও মাজারের মূল ভিতরে তাদের প্রবেশ সীমিত, তবুও মাজারের বাইরের ফটকে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে অনেকে মোনাজাত করেন।

আধুনিক প্রজন্মের আকর্ষণ

শুধু প্রবীণরাই নয়, আধুনিক প্রজন্মও এই মাজার নিয়ে আগ্রহী। কেউ কেউ মাজারের ইতিহাস নিয়ে গবেষণাও করছেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, সরকারের উচিত মাজারটিকে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনায় রূপান্তরিত করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানে – ঝালকাঠির শেখেরহাট শুধু ইতিহাস নয়, এক জীবন্ত বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।

✍️ প্রতিবেদন: খাইরুল ইসলাম মোল্লা

ভান্ডারিয়ায় মোবাইল কোর্টে যুবকের ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

ঝালকাঠির শেখেরহাট মাজার: শতবর্ষ পুরনো মাজার ঘিরে রহস্যে মোড়া এক আধ্যাত্মিক গল্প

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

📰 ঝালকাঠির শেখেরহাট মাজার: শতবর্ষ পুরনো মাজার ঘিরে রহস্যে মোড়া এক আধ্যাত্মিক গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঝালকাঠি |

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার শেখেরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত একটি পুরনো ও রহস্যময় মাজার— শেখেরহাট পীর সাহেবের দরগা। স্থানীয়রা একে সম্মানভরে ডাকেন “বুজুর্গ পীর সাহেবের মাজার” নামে। মাজারটির বয়স আনুমানিক ২০০ বছরেরও বেশি, তবে এর আশপাশে থাকা ইতিহাস, লোককথা ও অলৌকিক ঘটনা মিলে আজও এটি হয়ে আছে এক আধ্যাত্মিক রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু।

মাজারের অবস্থান খানিকটা গা-ছমছমে পরিবেশে, একটি প্রাচীন কবরঘরকে ঘিরে নির্মিত। সাদা গম্বুজের নিচে শুয়ে আছেন এক বুজুর্গ অলির কবর, যার প্রকৃত নাম বা পরিচয় আজো ধোঁয়াশায় ঢাকা। তবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, এই অলির দোয়ায় বহু মানুষ আরোগ্য লাভ করেছেন, মানত পূরণ হয়েছে বহু দরিদ্র-অসহায় মানুষের।

অলৌকিক ঘটনার গল্প

মাজার ঘিরে প্রচলিত রয়েছে বহু কাহিনি। স্থানীয়রা বলেন, রাত গভীর হলে মাজার এলাকা থেকে ভেসে আসে ধ্বনি— “আল্লাহু” কিংবা “ইয়া হক”। কারো মতে, সেগুলো জ্বিনদের জিকির। কেউ বলেন, পীর সাহেব এখনও তাঁর সাধনার শক্তিতে মাজারে উপস্থিত হন।

এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার জানায়, ১৯৭১ সালের এক রাতে পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়া এক যুবক মাজার চত্বরে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। গুলি চালানো হলেও কোনো গুলি তাকে স্পর্শ করেনি। সেই থেকেই মাজারটিকে ঘিরে বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

মানত আর মানুষের ভিড়

প্রতি বৃহস্পতিবার ও ওরসের সময় মাজার চত্বরে উপচে পড়ে ভক্তের ভিড়। কেউ খুশির খবরে মোমবাতি জ্বালান, কেউবা সন্তান লাভের আশায় ছাগল-গরু কোরবানি দেন। নারীরাও আসেন দূর-দূরান্ত থেকে, যদিও মাজারের মূল ভিতরে তাদের প্রবেশ সীমিত, তবুও মাজারের বাইরের ফটকে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে অনেকে মোনাজাত করেন।

আধুনিক প্রজন্মের আকর্ষণ

শুধু প্রবীণরাই নয়, আধুনিক প্রজন্মও এই মাজার নিয়ে আগ্রহী। কেউ কেউ মাজারের ইতিহাস নিয়ে গবেষণাও করছেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, সরকারের উচিত মাজারটিকে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনায় রূপান্তরিত করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানে – ঝালকাঠির শেখেরহাট শুধু ইতিহাস নয়, এক জীবন্ত বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।

✍️ প্রতিবেদন: খাইরুল ইসলাম মোল্লা