বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন আরও ৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮,৬৩২ জনে, আর মৃত্যু হয়েছে ১১৫ জনের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুন থেকেই ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১০,২৯৬ জন রোগী শনাক্ত হন এবং মৃত্যু হয় ৪২ জনের। শুধু জুনেই ভর্তি হন ৫,৯৫১ জন, মৃত্যু হয় ১৯ জনের। জুলাইয়ে অবস্থা আরও খারাপ হয়—ভর্তি ১০,৬৮৪ জন, মৃত্যু ৪১ জন। আগস্টের শুরুতেই মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ জনে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যথাক্রমে ১৩৫ কোটি ও ৪৬.৫০ কোটি টাকা মশক নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ দিলেও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনার অভাব, দুর্বল বাস্তবায়ন এবং জনগণের অসচেতনতাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বর্তমান আবহাওয়া—উচ্চ তাপমাত্রা, বর্ষা ও আর্দ্রতা—Aedes মশার বিস্তারকে সহায়ক করে তুলেছে। ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অধিকাংশ রোগী হাসপাতালে আসছেন দেরিতে, ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগস্টে সংক্রমণ তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে, এবং সেপ্টেম্বরেই পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সতর্কবার্তা:
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে এখনই প্রয়োজন সচেতনতা, ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ।















