বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, সময়োপযোগী ও টেকসই করে গড়ে তুলতে ৩০ দ’ফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশি’বির। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজ’ধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নৈতিকতা ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনে পর্যাপ্ত নয়। তাই সময়ের দা’বি পূরণে একটি সমন্বিত শিক্ষা সংস্কার জরুরি।”
সামরিক প্রশিক্ষণ ও STEM শিক্ষায় গুরুত্ব
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদের মধ্যে শৃ’ঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম জাগাতে পাঠ্যক্রমে সামরিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকা’বিলায় STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষা জো’রদার করার তাগিদ দেয়া হয়।
তিনটি ভাষা বাধ্যতামূলক, আরও ভাষায় উৎসাহ
শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি। পাশাপাশি চাইনিজ, জার্মান, জাপানিজসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষা শেখায় উৎসাহ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষা বাজেট জিডিপির ৬ শতাংশ করার দা’বি
সংগঠনটি উল্লেখ করে, দেশের বর্তমান শিক্ষা বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং এর ২০ শতাংশ গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করার সুপা’রিশ করা হয়।
ঝ’রে পড়া রোধে ইনসে’নটিভ ও স্কুল ফি’ডিং
BANBEIS-এর তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২২ সালে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ঝ’রে পড়ার হার ছিল প্রায় ৩১ শতাংশ। এ সম’স্যা সমাধানে স্কুল ফি’ডিং প্রকল্প সম্প্রসারণ, আর্থিক সহায়তা এবং অনগ্র’সর অঞ্চলে বিশেষ ইনসে’নটিভ প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ও শিক্ষা কমিশনের প্রস্তাব
শিক্ষাখাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও মেধানির্ভর করতে একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা নিয়োগ কমিশন গঠনের দা’বি জানায় ছাত্রশি’বির। এছাড়াও শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল চালুর সুপা’রিশও করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশি’বিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, এবং প্রচার সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ।
এ সময় বক্তারা জানান, “আমরা রাজ’নৈতিক বা দলীয় বিবেচনায় নয়, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজ’ন্মের স্বা’র্থে এই প্রস্তাবনা দিয়েছি। শিক্ষা খাতে টেকসই ও গঠনমূলক পরিবর্তনের জন্য সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সচেতন হওয়া এখন সময়ের দা’বি।”















